ব্র্যান্ডিং কি? এবং কেনো?
সহজ কথায়, একটি প্রোডাক্ট এবং এর সার্ভিস বিক্রয়ের জন্য সবচেয়ে অনন্য বা ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগই ব্র্যান্ডি। সেটি হোক অনলাইন কিংবা অফলাইন। বলা হয়, প্রচারেই প্রসার! এখন প্রসারের জন্য কোন ধরনের প্রচার ব্যবহার করছি বা করবো সেটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।তবে অবশ্যই ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে অনন্য প্রকাশ বা অনন্য প্রোডাক্ট প্রোডাক্ট বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
অনেক ক্ষেত্রেই ব্র্যান্ডিংয়ের সুদূরপ্রসারী ভাবনা না ভেবেই প্রোডাক্টের প্রচারে সবাই লেগে পড়েন। সাময়িক সময়ের জন্য তাতে বিক্রয় বাড়লেও।আগামীর ভাবনা না থাকায় পরে হাবি খেতে হয় অনেক প্রতিষ্ঠান একটা ব্যবসার দীর্ঘকাল সুনামব্র্যান্ডের গুণগতমান ঠিক রেখে এগিয়ে চলাতে ব্যবসায়ে স্থায়ী ক্রেতা এবং সয়ংক্রিয় ব্র্যান্ডিং ভ্যালু তৈরী হয়। যার ফলে প্রতিষ্ঠান নতুন নতুন ধাপে তুলে ধরতে পারে।
বর্তমানে আমাদের দেশে এমন অনেক ব্র্যান্ড পাবেন যারা নিজেদের একটি ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার পর অনেক শাখায় সফলতার সাথে কাজ করছেন। এর কারণ হচ্ছে সুদূরপ্রসারী ব্র্যান্ডিং ভাবনা এবং বর্তমান ব্র্যান্ড ভ্যালু ব্যবহার করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা।অনেকের মনেই বদ্ধমূল ধারণা এই যে, বিজ্ঞাপন বা সেলস প্রোমোশনই ব্র্যান্ডিং। এটি গতানুগতিক মার্কেটিং ছাড়া আর কিছুই নয আমি এটা বলছি না যে, মার্কেটিং দরকার নেই! অবশ্যই দরকার আছে। তবে ব্র্যান্ডিং মার্কে এর ধারনার থেকে আরো বড়ো ভাবনার প্রকাশ।শক্তিশালী মার্কেটিং এর মাধ্যমে কাস্টমারের মনে ব্র্যান্ড সম্পর্কে পোক্ত একটা ধারণা হয়। কিছু কিছু ব্র্যান্ডিং এতো শক্তিশালী অবস্থান তৈরী করে যাতে ব্র্যান্ডের নামের চেয়ে সবাই ব্র্যান্ড ভ্যালু বা প্রোডাক্টের গুনগত মানের ভক্ত হয়ে উঠে।
একটা উদাহরন দিলে ধারনা পরিস্কার হবে।পঁচা বল সাবানের কথা অনেকেই শুনে থাকবেন। সাধারণ অর্থে পঁচা ভাবলেই নাকে বিকট গন্ধ অনুভূত হয়। তবে পঁচা বল সাবান তার গুনগত মান দিয়ে সবাইকে জাত চিনিয়েছিলো। মূলত তার পর থেকেই নানান বল সাবানের বেশি বেশি প্রচারও কাস্টমার আকর্ষণের জন্য বল সাবানের বিজ্ঞাপন বহুলভাবে প্রচারিত হতে থাকে। কিন্তু পঁচা বল সাবান তার ব্র্যান্ডিং এর কারণে জনমনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলো।
এ থেকে সহজে বোঝা সম্ভব যে, প্রোডাক্ট যখন ব্র্যান্ড এর মর্যাদা পায় তখন মার্কেটিং এর শূরুর দিকের ট্যুলসগুলো গুরুত্বহীন হয়ে যায়।
সবশেষে বলতে চাই পুরানো কথা, মার্কেটিং হচ্ছে ব্র্যান্ডিং এর অংশ, যার শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী প্রকাশে একটা প্রোডাক্ট পায় ব্র্যান্ড ভ্যালু।
পরবর্তী লেখাগুলো পড়ার অগ্রীম অনুরোধ জানিয়ে আজকের মতো ইতি টানতে চাই। আগামী লেখাতে তুলে ধরবো ব্র্যান্ডিং এর কি কি বিষয় মাথায় রেখে কাজ করা উচিত সে বিষয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন এই প্রত্যাশা।
-আরমান হোসেন, ব্র্যান্ডিং এক্সপার্ট।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন