জয়পুরহাটের কালাইয়ে নবান্ন ঘিরে জমজমাট জামাই মেলা
মেলা শুরু হয় ভোর থেকেই। সকাল থেকে বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর ক্রেতাদের ঢলে পুরো বাজার ছিলো উৎসবমুখর। মেলার দোকানে দোকানে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, ব্রিগেট, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। বড় মাছের মধ্যে সর্বোচ্চ ওজনের মাছের ওজন ছিল প্রায় ২১ কেজি। ১০–২১ কেজি ওজনের মাছ প্রতি কেজি ৬০০–১২০০ টাকা এবং মাঝারি আকারের মাছ ২০০–৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।
মেলায় মাছ কিনতে আসা নাহিদ বলেন,
“দাম একটু বেশি হলেও নবান্নে জামাই আপ্যায়ন করতে ভালো মাছ না কিনলে উৎসব অসম্পূর্ণ মনে হয়। তবে এবছর আলু আর ধানের দাম কম হওয়া, ফসল নষ্ট হওয়াতে মেলাতে কৃষকদের অংশগ্রহন কম। ”
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার আমদানি ও মাছের দাম বেশি। মাছের মেলায় লোক সমাগম হলে বেচা-কেনা ভাল হবে। সেইসাথে এবারে ভাল লাভের প্রত্যাশা করছেন তারা। কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদা মোহতামিম জানান, “নবান্ন উৎসবকে সামনে রেখে কালাই উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে প্রতি বছরই মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এটি শুধু মাছের ক্রয়–বিক্রয়ের জায়গা নয়, বরং একটি প্রাণবন্ত উৎসবও বটে। এখানে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যায়, আর অনেক দর্শনার্থী শুধু আনন্দ উপভোগ করতেই মেলায় আসেন।”
জামাই মেলা শুধু কেনাবেচার উৎসব নয়; এটি স্থানীয় ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। প্রতিবছর নবান্ন উৎসবকে ঘিরে এই মেলায় অংশগ্রহন করে অনেক মানুষ। যা নবান্নের নতুন ধানের আনন্দ এবং পরিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন