ডিম বিক্রি করে হাইস্কুলে পড়ছে এই ছেলেটি...

ছবিতে আমার সাথের ছেলেটির নাম রাসেল। নওগাঁ জেলা পার্কে প্রায় প্রতিদিন বিকেলে ডিম ফেরি করতে দেখা যায় ওকে। মা-বাবা আর তিন ভাই নিয়ে রাসেলের পরিবার। বাবা সিদ্দিক হোসেন পেশায় নাপিত। স্বল্প আয়ে টানাপোড়নের মধ্যে দিয়ে ওদের সংসার চলে। এর মধ্যেও হাট নওগাঁ হাইস্কুলে ক্লাস সিক্সে পড়ে রাসেল। ফেরি করে কেনো এ প্রশ্নের জবাবে রাসেল জানায়, লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ এবং পরিবারের একটু সাহায্যের জন্য সে ফেরি করে ফিরে নওগাঁর পথে পথে। সকাল থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত স্কুলে ক্লাস করে বিকেল চারটার পর কাঁধে তুলে নেয় ফেরির বোঝা। ভবিষ্যতে কি হতে চায় এমন প্রশ্নের জবাবে রাসেল জানায় সে চাকুরী করতে চায়? যেকোনো চাকুরী; যাতে অন্তত তার পরিবারের দুঃখ ঘোচে। জীবনের এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যেভাবে রাসেল তার লেখাপড়ার দিকটি ঠিক রেখেছে তাতে বলার অপেক্ষা রাখে না যে আমরা একজন কর্মঠ ভবিষ্যৎ কর্ণধার পেতে যাচ্ছি। ধীরে ধীরে রেড়ে উঠবে রাসেল হয়ে উঠবে সুশীলদের একজন। এ কথাগুলো বলতে খুব সহজেই বলা হলেও রাসেলের চলার পথটা সহজ নয়।

 

ওর চলার পথটা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় পরিপূর্ণ। এ পথ উৎরানোর জন্য দরকার সহযোগী বন্ধুর।নওগাঁর রাসেলের মতো নওগাঁর বিভিন্ন জায়গাসহ এমনি অনেক রাসেল বাংলা পথে পথে ঘুরে ফিরছে প্রতিদিন মলিন বদনে; কিন্তু আমরা এর কজন রাসেলের খবর পাই? উপলব্ধি করতে পারি কজনের দুঃখ? বাংলাদেশে প্রায় ১০লাখের বেশি শিশু প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শিশুশ্রমের সাথে সম্পৃক্ত।

 ওদের মানবেতর জীবন যাপনের চিত্র চোখের সামনে উঠে আসলে সাময়িক আৎকে আবার স¦াভাবিক হয়ে যাই আমরা। সরকারের উপর দায় চাপিয়ে মুক্তির আনন্দে ছিঃ ছিঃ করি কিন্তু এ ছিঃ এর একটুখানি নিজের গায়ে নিতে রাজি নই কেউ। অথচ সবার একটু ক্ষুদ্র পদক্ষেপেই সম্ভব সুন্দর আগামীর তাই সবার উচিত এই স্বাধীনতার পূর্ণতা দানে বাংলার রাসেলদের পাশে দাড়ানোর। প্রত্যেকে নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে এ পট খুব শীঘ্রই পরিবর্তন সম্ভব। সেজন্য বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি সকল সংগঠন-সংস্থার সাথে সুহৃদ ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টি আর্কষণ করছি। শিশুশ্রম বন্ধে এগিয়ে আসুক সবাই যাতে ওদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়। তাই আসুন ওদের পাশে দাড়াই।

 *** আমি ওদের নিয়ে নিজের মতো করে কাজ শুরু করেছি। আমি ওদের পাশে দাড়াতে চাই। ওদের নিয়ে লিখছি পত্রিকায় যেগুলোতে আমি সম্পৃক্ত আছি।এই আশায় হয়তো কেউ ওদের পাশে দাড়ায়।