চিঠিটা অধরার...

“অধরা” কেমন আছো তুমি? তোমার বিড়াল ছানা দুটো কি এখনো ঝগড়া করে আমাদের মতো? ওরা অনেক বড়ো হয়েছে বুঝি? আচ্ছা চশমার ফ্রেমটা পরিবর্তন করেছো কি? চশমার জন্য তোমাতে আমাতে কতই না খুঁনসুটি হতো। তোমাকে “চশমিশ” বলে ডাকলে রাগের ভারে তোমার মুখটা দেখার মতো হতো; তাই বারবার চশমিশ বলে রাগাতাম তোমায়। এখন নিশ্চয় কেউ আর তোমায় ওভাবে কেউ ডাকে না? তোমার কি মনে আছে আমাদের প্রথম দেখার কথা, ঝগড়ার কথা। সেবার বৈশাখি ঝড়ের এলোমেলো বাতাসে তোমার মোলায়েম ওড়নাটা আমার মুখে এসে পড়েছিল। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাতে বুঝি তোমার আমার মিলন লিখা ছিল তা না হলে ওরকম কি হতো? ওড়না ফিরিয়ে নিতে এসে ওড়না সাথে আমার মনটা নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গিয়েছিলে তুমি। দিনে দুপুরে চোখের চাঁহুনিতে আমার হৃদয়টা ঘায়েল করেছিলে। এখনো তাই মাঝে মাঝে বুকের বাম পাশটায় ব্যাথা অনুভব করি। আর তাই বুঝি অনুভূতি গুলো তোমাকে অনিবার্য করে আমাকে করেছে নির্বাসিত। তোমার হাসি দেখে যখন হৃদয়ের ভেতরটায় মোচড় দিয়ে উঠল তখনো জানি না আমি আমার অজান্তেই তোমার প্রেমে ডুবে যেতে শুরু করেছি। তোমার জন্য আমার সাদামাটা মনে রং বেরংয়ের ঘুড়ির আনাগোনা তখন চরমে..। তারপর অনেক দিনের বিচ্ছেদ; তখনো আমি জানতাম না তোমার মনে আমার জন্য কোন ভাবাবেগ আছে কি না। পাগল হয়ে গেছিলাম আমি! তারপর ঘুরতে ঘুরতে একদিন এক পথশিশুর হাত ধরে কোথাও নিয়ে যেতে দেখলাম আমি। পিছু নিলাম সর্ন্তপনে। দেখলাম শিশুটির হারিয়ে যাওয়া শৈশবের বিদ্যাপীঠে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করছো তুমি। আর্বিভূত হলাম আমি কথা বললাম শিশুটির পরিবার আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে। গতি হলো ছেলেটির সাথে আমারও মানে আমাদেরও। এরপরের পথ একসাথে হাতে হাত দিয়ে। মন যা চাইতো তাই করতে তুমি; তোমাতে আমি আমার প্রতিবিম্ব দেখে অবাক হতাম। কি এতোসব লিখছি এসব তো তুমি জানোই। আর এরপর...। হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া। মনের চাপা কষ্ট তুষের আগুনের মতো বুকে লালন করে মিলনের নিরন্তর অপেক্ষা। আজ এতোদিন পরে তোমার ঠিকানা পেয়ে Facebook, Twitter, Whatsapps এর যুগে চিঠি লিখতে বসলাম। জানলাম তুমি রাঙামাটিতে আছো, ঠিক যেমনটি কথা ছিলো আমাদের।  লাল পাহাড়েরর দেশে, রাঙামাটির দেশে। সেখানে এতিমখানার শিশুদের আপা হয়েছো। কল্পনা করছি, ঐ বিদ্যাপীঠে পাঠদান করতে করতে তুমি চশমা চোখে টেনে তুলে হাস্যেজ্বল দীপ্তিময় মুখে জিজ্ঞেস করছো “বুঝতে পেরেছো তোমরা?” অধরা জানি না, এ চিঠি পড়ছো কিনা জানিনা চাপা অভিমানে প্রেরকের স্থানে “আরমান” নামটা দেখে হয়তো চিঠি গ্রহনই করোনি ডাক হরকরার কাছ থেকে। বেচারা ডাক হরকরা। ওদের গায়ের চর্বি কমে যেতো যদি তোমার আমার চিঠির কবলে পড়তো!!! অধরা ও অধরা রেগে যেয়ো না কিন্তু তাহলে যে তোমার সন্তানেরা কষ্ট পাবে। অনেক সময় পেড়িয়ে গিয়েছে আমার বেলা শেষে তোমার কাছে এক আকুতি এ ছন্নছাড়া মানুষটাকে তোমার নিষ্পাপ এতিম সন্তানদের বাবা হওয়ার সুযোগ দাও। আর দু একটা লাইনই তো আছে, তুমি এখনো অনেক পড়ো তাই না? এই শোনো আমার চিঠিটা পড়তে পড়তে বিরক্ত হচ্ছো আমি জানি...। তবুও তুমি এর শেষ দেখার জন্য এগিয়ে এসেছো এতদূর পড়তে পড়তে। এঘর থেকে বেড়িয়ে এসো তুমি, এসে দেখ অধরা তোমার শিশুদের বাবা তোমার চৌকাঠে কড়া নাড়তে ভয় পাচ্ছে। বেরিয়ে এসো চশমিশ, আমার বুকটার হাঁহাকার মিটিয়ে দিতে এসো। ভালোবাসায় এসো, সম্প্রীতিতে এসো, এসো মাটির টানে, এসো নতুন সূর্যের আলো হয়ে, এসো জাগরণের দূত হয়ে। আজ যে ভালোবাসায় বান ডেকেছে মনে তুমি বেড়িয়ে এসো পাগলি, আমি আবার তোমায় চশমিশ বলে রাগাতে চাই। তোমার ক্লাসের ঘন্টা বাজলো বলে, আজ একটু অনিয়ম করলে কিছু হবে না এরপর দুজন নিয়ম করে অনিয়ম করবো নাহয়। বেড়িয়ে এসো।

তোমার প্রতীক্ষারত
আরমান