ঈদের চাঁদ - স্মৃতিচারণ




ঈদের চাঁদ উঠেছে আকাশে। চাঁদ ছোট থেকেই বাঁকা। সেই বাঁকাই রয়ে গেলো। অনেক আনন্দ হতো ঈদের চাঁদের অপেক্ষায়। বুকের ভেতর অজানা এক অনুভূতি কাজ করতো। দল বেঁধে যেতাম চাঁদ দেখতে। চাঁদ দেখার সবচেয়ে মজার বিষয় ছিলো চাঁদকে সালাম দেয়ার মধ্যে। কে সবার আগে সালাম দেবে চাঁদ মামাকে তারজন্য প্রতিযোগিতা হতো। কেউ তো মারামারিও শুরু করে দিতো তাদের প্রথম হওয়ার গৌরবটা বজায় রাখতে। অনেক মজা হতো। ওই দিন সন্ধ্যার শাসন-বারনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকতাম আমরা। শুধু সে দিনই নয় তারপরের কয়েকটাদিন পর্যন্ত মুক্তির হাওয়া গায়ে মাখা যেতো।

দূর আকাশে আজও চাঁদ ওঠে; সূর্য আবর্তিত হয়। দিন আসে দিন যায়, শৈশব ফিরে আসে না কখনো। সেই বাঁকা চাঁদের হাঁসি দেখে এখন কেনো যে বলি না "আস্ সালামু আলাইকুম চাঁদ মামা"! সেকথা বুঝে আসে না।

ঈদের দিনের আনন্দও ছিলো অন্যরকম। সকালবেলা মায়ের ডাকে চোখ ঘসতে ঘসতে বিছানাতে উঠে বসা। আধো আধো চোখে ঘুম থেকে উঠে আবার বালিশ জরিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার কথা আজো স্মৃতিপটে অমলিন। তারপর মায়ের ডাকের তীব্রতায় দ্রুত উঠে গোসল করতাম। মাথার পানি মুছতে খুব সমস্যা হতো আমার। যা এখনও হয়। তারপর চোখে সুরমা গায়ে আতর মেখে বাবার সাথে রওনা হতাম ঈদগাহে। বাবার হাত ধরে এক প্রকার লাফাতে লাফাতেই চলতাম সেদিন।
তখন ঈদী বা সেলামী নিতান্তই নগন্য ছিলো কিন্তু তা থেকেও সঞ্চিত হতো কিছু টাকা আগামী দিন আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে কিছু কিনে খাবার জন্য। ধরুন ১০টাকা পেলে তা থেকে ৬টাকা সঞ্চিত হতো। যদিও এ সঞ্চিত অর্থ বেশি দিন চলতো না। দু দিনেই ফতুর।

ছোটবেলায় ঈদের ভালোলাগার আরো একটা বিষয় হলো ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি করা। ছোট ছিলাম তাই বড়োরা বেশিরভাগ হাঁটু গেড়ে বসে আবার কেউ কোলে তুলে নিয়ে কোলাকুলি করতো। সত্যিই মজার স্মৃতিটা মহাকাল শৈশবেই আটকে রেখেছে।

আজ ঈদ এই দিনে কয়েকটা কথা আকু পাকু করছিলো তাই শেয়ার করার প্রয়াস করতে লিখতে বসা। এখনকার ঈদ খুবই বিরক্তিকর না হলেও একাকিত্বটা এখন গায়ে সয়ে গেছে। কোথাও বেরুতে ভালো লাগে না। হয় ঘুমিয়ে কাঁটে না হলে সকালবেলা নামাজের পর থেকে মুভি দেখে সময় কাটে। সন্ধ্যাতে স্কুল মাঠে বা নদীর প্রবাহমান স্রোতের সাথে নিজেকে ভাসিয়ে দিই। ছোট্ট বেলার চঞ্চলতা এখন আর পেয়ে বসে না। মনে হয় হুট করেই বড়ো হয়ে গেছি। সেই শৈশবের স্পন্দন যুগের কষাঘাতে দুমড়ে মুচড়ে ভেসে গেছে মনের অগোচরে যমুনার জলে।

এখন কাজহীন প্রত্যেকটা সেকেন্ড বিষাদ লাগে। ক্লান্তিতে কষ্ট লাগে। ভাবনা আসে এখন নয় তো কখন? কাজের সময়টা কেউ কি কাউকে বলে নাকি কেউ মনে করিয়ে দেয় কাজটা কি? যাহোক অন্যদিকে যেতে চাই না ইতি টানতে চাই। কারণ আমি জানি আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন যাঁরা যতো বড়োই প্রবন্ধ বা নিবন্ধ হোক পড়বেনই। হ্যাঁ হ্যাঁ আপনার কথাই বলছি?  ভালো থাকবেন। নিজের দিকে খেয়াল রাখবেন। ভালো স্বত্তার বড়ো অভাব। আপনার চেতনা মুক্ত না করে থাকলে আজই সময় স্বাধীন করে দিন। আকাশ খুঁজে নিক চেতনা, পাক সে চেতনা উন্মুক্ত স্বাধীন।আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।