খোলা চিঠি...
প্রিয় যান্ত্রিক বন্ধুরা,
কেমন আছেন? আশা করছি গতিবেগে টালমাতাল হননি! আপনাদের ভালো থাকাটাই কাম্য। যান্ত্রিক যুগে ভাবাবেগটার সর্বস্ব বলি দিয়ে উপার্জনে আত্মনিয়োগ করেছে মানুষ। পৃথিবীটা এখন হাতের মুঠোই চলে এসেছে। ই(E) জীবনকে বদলে দিয়েছে। বিনিময়ে কেড়ে নিয়েছে আবেগ।
ছোট্টবেলায় আমার ঠিকানায় যে চিঠি আসতো আজ তা আর পথ ভুল করেও আসে না। #ডাক_হরকরার আজ অনেক অবসর। খাঁকি পোষাকটা পরিধান করতে হয় না আর। যুগের বির্বতনে পায়ে হাঁটা ডাক হরকরা তখন চায়না সাইকেলে। চিঠি দিতে এসে দরজায় বেল বাজানোর সেই ক্রিং ক্রিং শব্দের প্রতীক্ষারত বসে থাকায় যে কি আনন্দ তা বলে বোঝাবার নয়। দিন গুনতাম আমি সেই বেল বাজানোর ক্রিংক্রিং শব্দের।
যেদিন চিঠি আসতো বাড়িতে একটা উচ্ছাস অনুভূত হতো। পড়তে কষ্ট হলেও চেষ্টা অব্যাহত থাকতো। চিঠি দিয়ে মূলত তখন যোগাযোগ করা হতো বাবার সাথে। পরিবারের সবার সাথে বাবা আমার কথা কিছু লিখেছে কিনা সেটা জানার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতাম। হলুদ খামের চিঠির উপরে সেঁটে থাকা ডাক টিকিট গুলো প্রথমে সংরক্ষণ করতাম বেশ যত্ন করে। যা এখন কালের আর্বতে বিলীন।
ডাক হরকরার নিয়মিত চিঠি দেয়া নেয়া পরিবারের এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে গিয়েছিলো। কোন কারণে চিঠি না অাসলে প্রতিক্ষায় দিন কাটতো। চিঠি লেখাটার প্রথম হাতেখড়ি মায়ের থেকে। আমি এখন অবাক হই মায়ের চিঠি লিখার ভাষাজ্ঞানের কথা চিন্তা করে।
এরপর প্রযুক্তির পটার্বতে চিঠি হারিয়ে গেলো জীবন থেকে। ই(E) কেড়ে নিলো চিঠি লিখার কলম। কাঁপাকাঁপা হাত মুঠোফোনের ক্ষুদে বার্তার প্রেমে আসক্ত হলো। অপেক্ষার সুখ আর অনুভবকে স্পর্শ করে না। বড়োই অধৈর্য হয়ে পড়েছি আমরা। সব কিছু যেনো তড়িঘড়ি চাই। এক্ষুণি চাই। রাজা বাদশার "এই কে আছিস বলে" কারোর জন্য অপেক্ষার সুখও চাই না। চাই বিদ্যুৎ গতি। বিজলীর তৎপড়তা।
চিঠির বাক্সের জং ধরেছে। বাক্সটার আর খোলা হয় না দিন, সপ্তাহ, মাস, কিংবা বছরেও। তাঁর আহাজারি আর কেউ শোনে না শুনতে চায়ও না। ডাক হরকরার দিন শেষ। রানার কবিতা আর কেউ পাঠ করে না। করবেই বা ক্যানো এ যুগের সাথে যায় না তো?!
তবুও বলি কোনদিন যদি কেউ নিজের ঠিকানায় চিঠি পেয়ে থাকেন তাহলেই বুঝবেন আনন্দটা কেমন। প্রেমের চিঠির অনুভূতিটা আরো আবেগঘন। যদি সে বিষয়ে আলোকপাত করতে চাইছি না।
আবারো চিঠি লিখতে ইচ্ছে করে। ফিরে যেতে ইচ্ছে করে ডাক হরকরার অপেক্ষারত সেই সময়ে। ইচ্ছে করে চিঠি লিখতে গিয়ে ভুল হওয়া বানান সঠিক করতে কলমের খাপটা কামড়াতে। যা এখন হয়তো শুধু শুধু ভাবনাই। আর এখন যারা বেশি ভাবে তারা পিছিয়ে পরে থাকে। কেউ বায়ান্নোতে, কেউ ঊনসত্তরে, আবার কেউ একাত্তরে। অনেক না বলা কথা আছে যা অল্প পরিসরে বলা যাবে না। হয়তো বলা উচিতও না!? কেননা এসব কেউ শুনতে চায় না। সময় নেই যে?!
আর আপনার কালক্ষেপন করতে চাই না। বিদায় নিতে চাই আবেগের মতো সময়ের গতি ময়তায়।
ভালো থাকবেন সবাই। বাংলাদেশের সবার জন্য শুভ কামনা।
ইতি
"আরমান"
"আরমান"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন