চেতনার সময় এসেছে!

একুশের চেতনায় আমরা স্বাধীন। একুশের চেতনা বুকে লালন করেই বীর বাঙালি অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলো। স্বাধীন, সার্বভৌম, শান্তিময় যে দেশে আমরা স্বস্তিÍর নিশ্বাস নিচ্ছি তা একুশেরই দান।

যে স্বাধীনতায় আমরা প্রত্যহ প্রাণভরে মুক্তির স্বাদ নিই তা একুশ ছিলো বলে সম্ভব হয়েছে। একুশ আজো আছে বলেই স্বাধীনতাকামী রফিক, শফিক, সালাম, বরকতদের স্বত্তা স্মৃতিতে চির অমলিন। বলতে বাঁধা নেই একুশের চেতনা যদি উন্মুক্ত আন্দোলনে উন্মোচিত না হতো তাহলে আমরা স্বাধীনতারও দেখতাম না।

আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে ভাষা শহীদরা আমাদের ঘুম ভাঙিয়েছে তা চেতনার প্রথম রোপিত বীজ। যে বীজের ফসলে আলোকিত ও উজ্জিবীত হয়েই এসেছে স্বাধীনতা।

বাংলার মানব শিশুর মায়ের মুখের শেখা বুলিতে যখন আধো আধো বলতে শেখে তখনকার অনুভূতি মাতৃভূমিকে তৃপ্ত করে। “মা” ডাকা প্রথম বোলে মানবী মায়ের সাথে দেশ মাতৃকায় প্রশান্তির হাওয়া বয়ে যায়।
ভাষার মাসে বিনম্র শ্রদ্ধায় তাই সারাদেশসহ বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে পালিত হয় আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস।

শহীদদের স্মরণে লাল সবুজের এই বাংলাতে প্রথম শহীদ মিনার থেকে শুরু করে আজ শত, সহস্র, লক্ষ শহীদ মিনার তৈরী হয়েছে। কিন্তু কষ্টের বিষয় মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা নামক সোনার খনি পেয়েও আমরা তৃপ্ত নই।

তৃপ্তি নেই আমাদের স্বাধীনতাবোধে...! চাহিদার যান্ত্রিকতায় এখন সবাই আত্মকেন্দীকতায় টইটুম্বুর। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এখন দিবসের বেড়াজালে আবদ্ধ।

২১ শে ফেব্রুয়ারি হোক বা ২৬ মার্চ হোক অথবা ১৬ ডিসেম্বর সব দিবসই বাঙালি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে। দিবসসমূহে ব্যানার, ফেস্টুন, মিছিল, পুষ্পার্ঘ অর্পন, আলোচনা সভা আর পতাকা শোভিত বর্ণিল সাজে প্রকাশিত হয় ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ।

দিবস শেষে সকল ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, উচ্ছাস চৌকির তাকের নিচে বন্দি হয়ে যায়। যার জন্য শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধে কোনো ফারাক থাকে না! যেখানে অনায়েসে জুতো পায়ে ঘোরাফেরাসহ সেলফিও তোলা যায়।
আবার শ্রদ্ধার ফুল বিসর্জন হয় নদীমাতার বুকে। তাইতো নদী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারাচ্ছে। আসলে সৌন্দর্য কোথাও নেই। মানসিক যান্ত্রিকতায় আমরা কুপোকাত হয়ে আছি। তাইতো হিতাহিত জ্ঞান নাই।

আবার যদি মুক্তিযুদ্ধ হয়? তাহলে কি বিজয় ছিনিয়ে আনবার মতো দূঢ় অবস্থান তৈরী হতে পারে? বিষয়টা নিয়ে অনেকেই ভাবতে চাইবেন না।

চেতনা! বিবেক!  শ্রদ্ধাবোধ! আত্মত্যাগ এখন ইতিহাস।
কেননা এই যদি হয় চেতনার নমুনা তাহলে অচেতন কারা।

গৌরবের ইতিহাস বুকে ধরার সময় এসেছে। কেননা একুশ জাগরণের নাম, একুশ দুর্জয়, দুর্নিবার টর্ণেডোর নাম যা অপ্রতিরোধ্য।  দিবস কেন্দ্রিক লোক দেখানো শ্রদ্ধা না করে আসুন একুশকে অন্তরে ধারণ করি। সবাই মিলে গড়ে তুলি সত্যিকারে সোনার বাংলা।

-মো. আরমান হোসেন
সাংবাদিক
বদলগাছী প্রেসক্লাব, নওগাঁ।